পোস্টগুলি

প্রবন্ধ রচনা - বইমেলা

ছবি
 প্রবন্ধ রচনা - বইমেলা         আধুনিক সভ্যজগতের শিক্ষা ও সংস্কৃতি চেতনার অন্যতম প্রমাণপত্র 'বইমেলা'। বর্তমানে এই 'বইমেলা' শিক্ষা সচেতন মানুষের মধ্যে একটা বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে । একদা একটি মেলাকে কেন্দ্র করে বাংলার নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল । সেটি নবগোপাল মিত্র মহাশয়ের 'হিন্দুমেলা'। বর্তমানে 'বইমেলা'কে কেন্দ্র করেও বলা যায় একটা জাগরণ দেখা দিয়েছে শহরে, নগরে, গ্রামে-গঞ্জে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে পৃথিবীর যেখানে যত বড়ো মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতে বইয়ের একটি বিভাগ খোলা হয়েছিল । জ্ঞানের প্রসারের ক্ষেত্রে বই হল একটি বড়ো মাধ্যম । তাই ইংলন্ড, আমেরিকা, জার্মানী প্রভৃতি স্থানে প্রতি বৎসর বৃহৎ জাতীয় মেলার অঙ্গ-স্বরূপ বইয়ের প্রদর্শনী বসে । পৃথিবীর মধ্যে ফ্রাঙ্কফুটে স্থায়ী বইমেলা সর্বাপেক্ষা বৃহৎ । বই হল মনুষ্যত্ব বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম । বই না পড়লে মর্যাদাবোধ জন্মায় না । শিক্ষিত মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম রসদ হল বই । বই হল বিশ্বাসযোগ্য আয়নার মতো, যাতে আমাদের মনের প্রতিবিম্ব ধরা পড়ে । বইয়ের মতো অন্তরঙ্গ সহচর পৃথিবীতে আর কিছু নেই । বইয়ের সান্নিধ্য...

প্রবন্ধ রচনা - তোমার জীবনের লক্ষ্য

ছবি
 প্রবন্ধ রচনা - তোমার জীবনের লক্ষ্য             লক্ষ্যহীন জীবন, হালবিহীন জাহাজ, কাণ্ডারীহীন তরণী । জীবনে সফলতার দ্বারে পৌঁছোতে হলে শৈশব থেকেই একটা লক্ষ্য থাকা দরকার । তাই, লক্ষ্য হল মানুষের জীবনে ধ্রুবতারা । যার জীবনে লক্ষ্য নেই, সে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে, পরিণামে পায় ব্যর্থতার অশ্রু । ইংরেজ কবি মিলটন তাই বলেছেন-আকাঙ্খা বা লক্ষ্যই মানুষকে মহৎ প্রচেষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে, সক্রিয় করে তোলে । স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন - "Who sows must reap" লক্ষ্য তাই জীবনে একরকম বীজবপন করা, 'ফসল তোলা' হল জীবনের সাফল্য ।       নানা মুনির নানা মত। মানুষের রুচি, প্রকৃতি ও যোগ্যতা অনুযায়ী লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন । কেউ চায় ইঞ্জিনিয়ার হতে, জীবনের বিভিন্ন লক্ষ্য কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বা শিক্ষক । কেউ চায় জীবনে ধনসম্পদ, কেউ চায় যশ খ্যাতি মান । জাতিগত বৃত্তির যুগ উঠে গেছে । এসেছে কর্ম নির্দেশক শিক্ষা । তাই আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে- 'আমি কি হতে চাই।' এক্ষেত্রে আমার 'নেশা' ও 'পেশা' যদি গাঁটছড়া বাঁধে, তাহলে মনের সন্তোষ বাড়ে ।             ...

প্রবন্ধ রচনা - জাতীয় সংহতি

ছবি
 প্রবন্ধ রচনা - জাতীয় সংহতি "জাতীয় সংহতি মিলনের সুরে  প্রগতির কথা বলে,  বিভেদ ভুলিয়া, হৃদয় মেলিয়া- হাতে হাত ধরে চলে।"        একটি জাতির উন্নতির মূল কথা হল জাতীয় সংহতি । জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দলমতনির্বিশেষে একটি দেশের প্রত্যেকটি মানুষ যদি এক মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, যদি একসূত্রে গ্রথিত হয় সহস্র কোটি মন, তবেই দেখা দেবে জাতীয় সংহতি । তখন বিভেদ ভুলে হৃদয় মেলে সকলে হাতে হাত ধরে চলে । রচিত হয় মহামিলনের মানব শৃঙ্খল ।          জাতীয় সংহতি হচ্ছে জাতির অর্থাৎ দেশের জনগণের আন্তরিক ঐক্যচেতনা বা ঐক্যানুভূতি । নানা ভাষা নানা মত ও নানা পরিধানের বাধা সত্ত্বেও কোনো দেশের অধিবাসীদের মধ্যে মিলনের ও ঐক্যবোধের চেতনার বিকাশ ঘটলেই জাতীয় সংহতির বিকাশ ঘটে । কোনো জাতির সকল মানুষ যখন জাতিভেদের সীমা, ভৌগোলিক সীমা, অর্থ-সংগতির সীমা, সাম্প্রদায়িকতার সীমা, নানা বিশ্বাস ও সংস্কারের সীমাকে উপেক্ষা করে নিজেদের মধ্যে ঐক্যবোধ ও চেতনাকে জাগিয়ে তোলে, তখনই এক সূত্রে সহস্র জীবন গ্রথিত হয়ে জাতীয় সংহতির ছবি পরিষ্কার হয়ে ওঠে । শিক্ষাবিদরা জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় ও সুরক্ষিত করার জন্...

প্রবন্ধ রচনা - একটি ছুটির দিন

ছবি
 প্রবন্ধ রচনা - একটি ছুটির দিন  "ছুটি পেলেই হৃদয়পুরে বাজায় কে যে বাঁশি,  যেদিকে চায়, খুঁজে যে পায়, মজা রাশি রাশি ।"                 হঠাৎ পাওয়া গেল একটি ছুটির দিন । -একেবারে আচমকা । অপ্রত্যাশিত । একটানা পড়াশোনার সুকঠিন একঘেয়েমির ভেতর এসে হাজির হয়ে গেল অপ্রত্যাশিত একটি ছুটির দিন । গুমোট গরমের পর যেন এক পশলা বৃষ্টি ।                কুসুমের ভেতর যেমন সৌরভ, মধুর মধ্যে যেমন মিষ্টতা বা মরুভূমিতে যেমন 'ওয়েসিস', অনেকটা সেই ভাবেই পাওয়া গেল এই ছুটিটিকে । -আর সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতর গুনগুনিয়ে গুঞ্জরিত হয়ে উঠল রবীন্দ্রনাথের সেই গান, "আজ আমাদের ছুটি রে ভাই, / আজ আমাদের ছুটি।" মনের ভেতর রবীন্দ্রনাথের ওই গানটি বারবারই ধ্রুপদী সংগীত হয়ে আমাদের মনকে মাতিয়ে তুলতে থাকল । "কী করি আজ ভেবে না পাই,  পথ হারিয়ে কোন্ বনে যাই।"     ছাত্রজীবনে ক্রমবর্ধমান পড়ার চাপ । ভালো Result-এর জন্য শুধু পড়া আর পড়া । সাহিত্য, ভূগোল, অংক হঠাৎ পাওয়া একটি -কোনো বিষয়কে বাদ দেওয়ার নেই। পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে হবে তো ? তাই, ছুটি...

প্রবন্ধ রচনা - সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ

ছবি
  প্রবন্ধ রচনা - সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ "সাম্প্রদায়িকতা হল বিভেদনীতি-মানবতার পথে বাধা,  জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী-গরমিলে সুর সাধা।” ভূমিকা: বৈচিত্র্যের ভেতর ঐক্য                     আমাদের সোনার ভারতে 'নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান ।' এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও বহু ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করে । কিন্তু, এত প্রভেদ সত্ত্বেও আমরা এক সূত্রে গ্রথিত সহস্র কোটি প্রাণ । কবির ভাষায় - “বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।" সাম্রাজ্যবাদী শাসকের ষড়যন্ত্রে আমাদের সেই জাতীয় ঐক্য কালে কালে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে । আজও একবিংশ শতাব্দীতে স্বার্থপরতার হীন ষড়যন্ত্রে জাতির ঐক্য বিপন্ন । কোথায় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ? কোথায় বিবিধের মাঝে মহান মিলন ? আজ দিকে দিকে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে । দেখা দিয়েছে উন্নত ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের মধ্যে শ্রেণিসংগ্রাম । এই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদের কী করণীয় তা ভেবে দেখবার সময় এসেছে । ধর্মনিরপেক্ষতা ও ছাত্রসমাজ                     ভারত এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র । এ কথ...

আপার প্রাইমারি Social studies থেকে মক টেস্ট (ক্লাস - 05)

ছবি
 আপার প্রাইমারি Social studies থেকে মক টেস্ট (ক্লাস - 05) 1. বায়ুমন্ডলে আর্গন (Ar) গ্যাসের উপস্থিতি শতকরা কত শতাংশ ? A. 0.3 B. 0.33 C. 0.003 D. 0.934 2. বায়ুচাপ মাপক যন্ত্রটি হল - A. হাইগ্রোমিটার B. ব্যারোমিটার C. থার্মোমিটার D. অ্যানিমোমিটার 3. কোন রোগটি মানব শরীরে দূষিত জল থেকে সৃষ্টি হয় - A. আমাশয় B. হাঁপানি C. ফুসফুসে ক্যান্সার D. দৃষ্টিহীনতা   4. একটি ই-বর্জ্য এর উদাহরণ হল - A. ওষুধের শিশি B. প্লাস্টিক C. লৌহচূর্ণ D. তার   5. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ কোনটি ? A. উলার B. চিল্কা C. সম্বর D. প্যাংগং 6. নর্মদা নদীর উৎস কোথায় ? A. হিমালয় B. শিওয়া পাহাড় C. অমরকন্টক D. ব্রহ্মগিরি 7. পাঞ্চেত বাঁধ কোন নদীর উপর নির্মাণ করা হয় ? A. বরাকর B. দামোদর C. গঙ্গা D. ব্...

"হারুন সালামের মাসি" গল্পের সারাংশ

 "হারুন সালামের মাসি" গল্পের সারাংশ       অজ পাড়াগাঁয়ে, জীর্ণ এক কুঁড়েঘরে গৌরবির বাস । তার স্বামী নেই । মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে তাকে দেখে না, থাকে অন্যত্র । গৌরবি জন্ম-খোঁড়া । শাক, পাতা, গুগলি তোলার জন্য তাকে প্রতিবেশী হারার মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয় । এইসব শাক-গুগলি সে বিক্রি করে যশির (যশোদার) কাছে । গল্পের শুরুতে মুসলমান সন্তান রুগ্ন হারা গৌরবি মাসিকে জানায়, তার মা ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না ।         অনাথ হয়ে গেল, হারা । এই অনাথ শিশুর দায়িত্ব নিতে তার কাকা রাজি নয় । তাই হারা চলে এল গৌরবির কাছে । হারা দেখল, গৌরবিই তার ভরসা । এই গৌরবিই তার আসল মাসি । অগত্যা গৌরবি তাকে আশ্রয় দিল । নিজে একগাল খুদ খেল ও হারাকেও কিছুটা দিল । চাটাই পেতে তারা শুয়ে পড়ল । সাত পাঁচ ভাবতে লাগল গৌরবি । মা-বাপ হারা কি সত্যিই তার কাছে থাকতে এসেছে ? তাহলে তো মহাবিপদ । তার নিজেরই চলে না, পরের জমিতে বাস, তার ওপর মুসলমানের ছেলে । গৌরবি খুবই ফাঁপরে পড়ে গেল ।        গৌরবি দেখে, ঘুমের মধ্যে হারা ফোঁপাচ্ছে । হারাকে ডেকে পাশ ফিরে শুতে বলে গৌরবি । এরপর গৌরবি হারার পাশেই ...