নোবেল পুরস্কার ও নোবেলজয়ী ভারতীয়

নোবেল পুরস্কার ও নোবেলজয়ী ভারতীয়

নোবেল পুরস্কার ও নোবেলজয়ী ভারতীয়


   ডঃ আলফ্রেড বার্ণাড নোবেল ছিলেন একজন সুইডিশ (১৮৩৩-১৮৮৬) । তিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করে আরও খ্যাতি লাভ করেন । মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর বিপুল ধনসম্পত্তির বছরের আয় থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষীদের পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন । তাঁর মৃত্যুর পর দলিলের শর্ত অনুসারে পাঁচটি বিষয়ে পাঁচ বা ততোধিক ব্যাক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা আজও চালু আছে । তাঁর নাম অনুসারে এই পুরস্কারের নাম হয়েছে নোবেল পুরস্কার । ১৯০১ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে । ২০০১ সালে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ৯ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯ লক্ষ ৯০ হাজার ডলার করা হয় । ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে এই পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 বর্তমানে যে ছয়টি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় সেই ৬টি বিষয় হল- (১) ঔষধ ও চিকিৎসা, (২) শান্তি, (৩) সাহিত্য, ৪) পদার্থ বিজ্ঞান, (৫) রসায়ন বিজ্ঞান এবং (৬) অর্থবিদ্যা।

যে ছয়জন ভারতীয় সন্তান এ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁরা হলেন-

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)-সাহিত্য (গীতাঞ্জলির জন্য), ১৯১৩।

২। সি. ভি. রমন (১৮৮৮-১৯৭০)-পদার্থ বিজ্ঞান, ১৯৩০।

৩। ডঃ হরগোবিন্দ খোরানা - শারীরতত্ব ও ঔষধ, ১৯৬৮। ইনি ডঃ রবার্ট হোলে ও ডঃ মার্সাল নিরেনবার্গ নামে দুজন আমেরিকানের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন।

৪। মাদার টেরেসা, (শান্তি), ১৯৭৯। ইনি ১৯১০ সালে যুগোশ্লাভিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ বৎসর বয়সে শিক্ষাব্রতী হিসাবে তিনি ভারতবর্ষে আসেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত "Missionaries of Charity" ১৯৫০ সালে ভ্যাটিকান কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অবশ্য ১৯৪৮ সালে মাদার টেরেসা ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

৫। সুব্রহ্মনিয়ম চন্দ্রশেখর (পদার্থবিদ্যায়)-১৯৮৩। এস্ চন্দ্রশেখর ১৯১০ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। নোবেল লরিয়েট C. V. Raman তাঁহার খুল্লতাত। প্রথম জীবনে তিনি মাদ্রাজে লেখাপড়া করেন। পরবর্তী জীবনে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

৬। অমর্ত্য সেন (অর্থনীতি)-১৯৯৮। ১৯৩৩ সালের ৩রা নভেম্বর অমর্ত্য সেনের জন্ম হয়। তাঁর বহু সাধনার কল্যাণমূলক অর্থনীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতির প্রবক্তা ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়ে অর্থনীতির সাবেকি ধারনাটা বদলে দিয়েছে।

৭। ভেঙ্কটরামন রামাকৃষ্ণান: ২০০৯, (রসায়ন), রাইবোসোমের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে গবেষণার জন্য, যা প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 

৮। কৈলাশ সত্যার্থী ২০১৪, (শান্তি) শিশু, কিশোরদের স্বার্থ রক্ষা, শিশুশ্রম রোধ, শিশু পাচারের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন ।

৯। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়: ২০১৯, (অর্থনীতি) ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রকাশিত হলো UGC - NET December 2025 পরীক্ষার Answer Key

প্রবন্ধ রচনা - সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ

আপার প্রাইমারি 2026, Social Studys থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর - ক্লাস 1