ভারতের জাতীয় পতাকা
ভারতের জাতীয় পতাকা তিন রঙের । উপরে গেরুয়া, মধ্যে সাদা ও নীচে গাঢ় সবুজ। তিনটি রঙই সমপরিমাণ স্থান জুড়ে আছে । পতাকার দৈর্ঘ্য তার প্রন্থের দেড়গুণ । পতাকার সাদা রঙের মাঝখানে একটি চক্র আছে । চক্রটিতে ২৪টি কাঁটা । এই চক্রটি মহান সম্রাট অশোকের 'ধর্মচক্র'-এর অনুকরণ । প্রতিটি রঙ এবং অশোকচক্র বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে । গেরুয়া - ত্যাগ ও শৌর্যের প্রতীক, সাদা - শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক এবং গাঢ় সবুজ - নির্ভীকতা, কর্মশক্তি ও জীবনবোধের প্রতীক । অশোকচক্র - ক্ষমা, প্রেম, উন্নতি ও প্রগতির প্রতীক।
১৯৪৭ সালের ২২শে জুলাই গণপরিষদে এই পতাকা গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট মধ্যরাত্রিকে এই পতাকা ভারতীয় মহিলাদের পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশ্য গণপরিষদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।
জাতীয় পতাকা দেশের মর্যাদার প্রতীক । জাতীয় পতাকার অমর্যাদা দেশের অমর্যাদারই সমান । ভারত সরকার এই কারণে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের কিছু নিয়ম আইন করে বেঁধে দিয়েছেন । নিয়মগুলি হল -
১। কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সামনের জাতীয় পতাকা নোয়ানো চলবে না ।
২। জাতীয় পতাকা বহন করার সময় অকুঞ্চিত অবস্থায় সোজা করে নিতে হবে । কোন মিছিলে নিতে হলে মিছিলের সর্বাগ্রে উঁচু করে যোগ্য ব্যক্তিকে ডান কাঁধে বহন করতে হবে ।
৩। পতাকার গেরুয়া রংয়ের দিক সব সময় উপরে থাকবে ।
৪। জাতীয় পতাকার ডান দিকে কিংবা উপরে অন্য কোন পতাকা বা প্রতীক থাকতে পারবে না । যদি একই লাইনে অন্য পতাকার সঙ্গে জাতীয় পতাকা উঠানো হয়, তবে অন্য সব পতাকা জাতীয় পতাকার বাঁদিকে থাকবে । অন্য কোন পতাকার সঙ্গে, জাতীয় পতাকা উড়ানো হলে জাতীয় পতাকা সবার উপরে থাকবে ।
বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিনে যেমন- মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে, নেতাজীর জন্মদিনে, প্রজাতন্ত্রদিবসে কিংবা স্বাধীনতা দিনে, জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন করা হয় । সাধারণত জাতীয় পতাকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারী বাড়ীতে উড্ডীন রাখা হয় । জাতীয় শোক প্রকাশ করতে কিংবা কোন ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখাতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় । ছেঁড়া, ফাঁটা, কিংবা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উঠানো বেআইনী ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন